নিঃসন্দেহে বাসা বদল করে নতুন বাসায় স্থানান্তর হওয়া একটি জটিল এবং কঠিন কাজ। এক্ষেত্রে যেমন সময় খরচ হয় তেমনি শক্তিও খরচ হয় প্রচুর আর আর্থিক বিষয়টা কখনোই বাজেটের ভেতর থাকে না। কিন্তু কিছু নিয়মের ভেতর দিয়ে গেলে কিছুটা সহজতা আসতে পারে।

বাসা পাল্টানো যেমন ভীষণ ঝামেলার কাজ, তেমনি আবার আনন্দেরও বটে। আনন্দ হলো নতুন বাসায় সবকিছু নতুন করে গুছিয়ে নেয়া। কিন্তু এক বাসার জিনিসপত্র অন্য বাসায় নিয়ে যাওয়াটা বেশ কষ্টদায়ক।

এক্ষেত্রে যেমন সময় খরচ হয় তেমনি শক্তিও খরচ হয় প্রচুর আর আর্থিক বিষয়টা কখনোই বাজেটের ভেতর থাকে না। কিন্তু কিছু নিয়মের ভেতর দিয়ে গেলে কিছুটা সহজতা আসতে পারে। তবে সহজ কিছু উপায়ে পুরাতন বাসার মালামাল নতুন বাসায় নিয়ে যেতে পারেন।

জেনে নিন ঘর পাল্টানোর সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন-

বাসা বদলের আগে অনেকগুলো বড় কাগজের বাক্স কিনে আনুন। যখন বাক্সে ঘরের জিনিস ভরে ফেলবেন, তখন এর ওপরে নাম লিখে ফেলুন। যাতে খোলার সময় সহজেই বুঝতে পারেন কোন রুমে রাখবেন এবং কী কী রাখবেন।

বাসা যদি নিজের হয়, তাহলে বাসাটি যখন পুরোপুরি তৈরি হবে তখনই সেই বাসায় যাওয়ার চেষ্টা করুন। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো একটা রুমের রং করা বাকি আছে কিংবা একটি বাথরুমে এখনো সব কল লাগানো হয়নি অথবা বসার ঘরের সিলিং এখনো শেষ হয়নি এমন অবস্থায় কেউ কেউ নতুন বাসায় উঠে যান। এতে মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এত দিন যেহেতু অপেক্ষা করেছেন, আর না হয় কয়টা দিন বেশি অপেক্ষা করুন। সব ঠিকঠাক হয়ে গেলে নতুন বাসায় উঠুন।

একেক রুমের মালামাল একেকটি বাক্সে ভরে ফেলুন। তাহলে নতুন ঘর গোছানোর সময় সবকিছু হাতের কাছে পাবেন, আর ঝামেলাও কম হবে।

নতুন বাসায় প্রথমেই সব রুমের খাটগুলো লাগিয়ে ফেলুন। কারণ এর ওপর কাপড় রেখে আলমারি অনেক দ্রুত গোছাতে পারবেন।

কাচের মালামালগুলো নিজেই বহনের চেষ্টা করুন। নতুবা মাল টানার লোকদের কাছে দিলে ভেঙে ফেলতে পারে। এমনকি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, গয়না ও টাকা-পয়সাও নিজের কাছেই রাখুন। এতে হারানোর আশঙ্কা থাকবে না।

আপনার ঘরে অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো আপনি দান করে দিতে পারেন বাসা বদল করার সময়। বাচ্চার ভাঙ্গা খেলনা, নষ্ট হয়ে যাওয়া হাড়ি পাতিল, পুরনো ছেড়া জামা কাপড়, পুরনো জুতো, ব্যাগ ইত্যাদি অনেক কিছুই থাকে ঘরে যা আমাদের আর কোন কাজে আসবে না। সেই জিনিসগুলো গরিবদের দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে করে ঘর ও একটু জঞ্জাল মুক্ত হয় এবং বাসা বদল করার সময় বোঝাও একটু কমে।

এ সব কাজে তাড়াহুড়ো না করে ঠাণ্ডা মাথায় কাজ করতে হবে। তাড়াহুড়োর ফলে জিনিসপত্রের ক্ষয়ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী ঘরের জিনিসপত্রের দায়িত্ব ভাগ করে নিলে পুরো ব্যাপারটা আরো সুবিধার হয়। যেমন কেউ একজন রান্নাঘরের জিনিসপত্রের দায়িত্ব নিল, কেউ একজন বেডরুমের। বাসা পাল্টানো কাজটা ঝামেলা দায়ক বিধায় এ সময় মাথা অল্পতেই গরম হয়ে যেতে পারে তাই মাথা ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করতে হবে। আমাদের বুঝতে হবে, রেগে গিয়ে হেরে গেলে তো চলবে না। ঠাণ্ডা মাথায় সমস্যার সমাধান করতে হবে।

সংগৃহীত: সময়ের কণ্ঠস্বর