ফ্রিজের যত্ন নেবেন যেভাবে – 20 টিপস

Home Shifting
Home Shifting Service in Dhaka
10-January-2020

ফ্রিজের যত্ন নেবেন যেভাবে – 20 টিপস

Fridge

শীতকাল হোক বা গরম কাল ফ্রিজ ছাড়া আমাদের একমুহূর্ত যেন চলে না। আর শহুরে জীবনে ফ্রিজ তো জীবনেরই একটা অংশ। তবে এই ফ্রিজ থেকে আপনার কাঙ্খিত সার্ভিস পেতে প্রয়োজন যথাযথ পরিচর্যার। ফ্রিজের যেমন অনেক ভাল গুণ রয়েছে তেমনি খাবার ভাল রাখতেও এর বিশেষ যত্নের প্রয়োজন রয়েছে। ফ্রিজ অপরিষ্কার থাকলে খাবার যেমন দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, তেমনই সেই খাবার থেকে আমাদের শরীরে নানা ধরনের রোগ বাসা বাঁধতে পারে। আর নোংরা থাকার কারনে আপনার অতি শখের ফ্রিজটিও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তখন হয়তো নিজের অবহেলার দায়ভার তুলে দিতে চেষ্টা করবেন ফ্রিজের ব্রান্ডের গায়ে। কিন্তু লাভ নেই কিছুই, কারণ টাকার অংকে ক্ষতিটা সামাল দিতে হবে আপনাকেই।

আসুন জেনে নেই ফ্রিজ ঝকঝকে ও সুন্দর রাখার, সাথে খাবার সংরক্ষণের নানা রকম পদ্ধতি –

১. প্রতি মাসে কম করে হলেও একদিন ফ্রিজের ভেতরটা পরিষ্কার করুন। যেদিন আপনার ফ্রিজে অল্প পরিমাণে খাবার থাকে, বা মাসের শেষ দিনটি বেছে নিন ফ্রিজ পরিষ্কার করার জন্য।

২. ফ্রিজ পরিষ্কার করার জন্য সাবান পানি ব্যবহার করুন। কিংবা ব্যবহার করতে পারেন গ্লাস ক্লিনারও। তবে পাওয়ার অফ করে নিতে হবে শুরুতেই। ফ্রিজের ভেতরের সব খাবার এবং ট্রে বের করে নিতে হবে। তারপর লিকুইড সাবান ও স্পঞ্জ দিয়ে ফ্রিজের ভেতরটা ভালোভাবে মুছে নিন । খেয়াল রাখবেন সাবানের গন্ধ যেন না থাকে।

৩. হালকা গরম পানিতে গুঁড়ো সাবান গুলে প্রতিটি শেলফ আর ট্রে আধা ঘণ্টা ডুবিয়ে রাখুন, শুকনো করে মুছে নিন, তারপর জায়গা মতো ফিট করে দিন। পানি বেশি গরম হলে ট্রে – র উপরের প্লাস্টিক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

৪. ফ্রিজের ভেতরের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য হালকা গরম পানির সাথে বেকিং সোডা বা ভিনিগার মিশিয়ে সেই মিশ্রিত দ্রবণ দিয়ে ফ্রিজ পরিষ্কার করুন। ফ্রিজের এক কোনায় একটি ছোট কৌটায় বেকিং সোডা রাখতে পারেন, এতে ফ্রিজে দুর্গন্ধ কম হবে।

৫. ফ্রিজ পরিষ্কার করার জন্য কখনো লোরিন ব্লিচ বা খসখসে কাপড় ব্যবহার করবেন না, এতে শেলফের প্লাস্টিকের আবরণ উঠে যেতে পারে । অনেক সময় ফ্রিজের ভেতরের দেয়ালে স্কেচ পরে যেতে পারে।

৬. ফ্রিজের বাইরের অংশ পরিষ্কার করার জন্য ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন। ফ্রিজের চারপাশের রাবারের অংশ নিয়মিত সাবান পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন, না হলে ধুলো বালি জমে রাবার ফেটে যেতে পারে। তবে রাবারের জমে থাকা ময়লা বের করার জন্য শক্ত কিছু ব্যবহার করবেন না। এতে রাবার ফেটে বা ছিদ্র হয়ে যেতে পারে।

fridge-bodlao

৭. রান্না ঘরে ফ্রিজ না রাখাই ভালো। তবে জায়গার স্বল্পতা থাকলে আলাদা কথা এবং সেক্ষেত্রে ফ্রিজের উপরের অংশ পাতলা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে রাখুন, তা হলে উপরের অংশ তেল চিট চিটে হবে না। আর যতটা সম্ভব চুলা থেকে দূরে রাখুন।

৮. বেশিদিনের পুরানো খাবার ফ্রিজে না রাখাই ভালো, এতে ফ্রিজে বাজে গন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং সে গন্ধ অন্নান্য খাবারেও ছড়িয়ে যেতে পারে যা ফ্রিজে রাখা বাকি সকল খাবারের গুনাগুন নষ্ট করবে।

৯. কোনো অবস্থায়ই গরম খাবার ফ্রিজে তুলে রাখবেন না, ফ্যানের নিচে খাবার রেখে ঠাণ্ডা করে তবেই ফ্রিজে রাখুন।

১০. ফল, সব্জি, মাছ প্রতিটি খাবার সংরক্ষণের জন্য আলাদা আলাদা তাপমাত্রার প্রয়োজন। তাই মাছ মাংস, ফ্রোজেন ফুড ডীপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। এছাড়া দুধ, ডিম,পাউরুটি, জ্যামের মতো খাবার নির্দিষ্ট তাকে রাখুন।

১১. ফ্রিজের ভেতর ফল ও সবজি এক সাথে না রেখে আলাদা আলাদা রাখুন। কারন আপেল ও অন্য কয়েক ধরনের ফল থেকে ইথিলিন নামক গ্যাস বের হয় যা সবজিকে জলদি পাকিয়ে দেয়। রান্না করা খাবার বক্স করে রাখলে গন্ধ অন্য খাবারে যেতে পারে না।

১২. সবজি প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে ফ্রিজে রাখুন,খেয়াল রাখবেন প্যাকেটের মুখটা যেন ভালোভাবে আটকানো থাকে। এতে সবজির আদ্রতা ও পুষ্টি গুন বজায় থাকবে। ফ্রিজেও গন্ধ হবে না।

১৩. মাসে একবার অন্তত ফ্রিজের সিল পরীক্ষা করুন । যদি কোথাও চিড় দেখা দেয় তা হলে দেরি না করে জলদি সারিয়ে নিন ।

১৪. ছয় মাস পর পর ফ্রিজের পাওয়ার অফ করে ফ্রিজের পেছনে বা নিচে থাকা কয়েল পরিষ্কার করুন। নরম ঝাড়ন দিয়ে কয়েলে লেগে থাকা ধুলো পরিষ্কার করুন ।

১৫. কোনো অবস্থাতেই ফ্রিজের উপর ভারি মালামাল রাখবেন না। বাসা পরিবর্তন কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে ফ্রিজ শিফট করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে বড় ধরণের কোনো ঝাকুনি না লাগে।

১৬. বর্ষাকালে সবজি পানি দিয়ে ধুয়ে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে সংরক্ষণ করুন। শাক পাতার আঁটি খুলে রাখুন, নষ্ট হয়ে যাবে না। কাঁচা মরিচের বোটা ফেলে ফ্রিজে রাখুন, বেশি দিন ভাল থাকবে। এগুলো পচলে কিন্তু বিচ্ছিরি গন্ধ হয়।

১৭. সম্ভব হলে এয়ার টাইট বক্সে খাবার সংরক্ষণ করুন,তা হলে খাবার পচে যাবার সম্ভাবনা কম থাকে, ফলে ফ্রিজেও দুর্গন্ধ হবে না ।

১৮. ফ্রিজ পরিষ্কার করার পর তাপমাত্রার সুইচ চালু করে দিতে ভুলবেন না। সব সেটিং ঠিক আছে কিনা খেয়াল করে নিন। লোডশেডিঙয়ের পর সব সময় পরীক্ষা করুন ফ্রিজ ঠিক মতন চলছে কিনা।

১৯. কখনো জোর করে ফ্রিজের দড়জা বন্ধ করবেন না, এতে ফ্রিজের রাবারের সিল নষ্ট হয়ে যায়। দরজা ঠিক মতন বন্ধ হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন।

২০. ফ্রিজ কখনো দেয়ালের সাথে একদম লাগিয়ে রাখবেন না, দূরত্ব রাখুন। যে স্থানে ফ্রিজ রাখা সেটি খুব গরম হলে মাঝে মধ্যেই ফ্যান ছেড়ে রাখুন । ফ্রিজের দরজা খুলে রেখে রুম ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করবেন না।

করোনাকালীন এ সময় ফ্রিজ থেকে যে কোনো খাবার বের করা এবং রাখায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন। যেহেতু ফ্রিজ থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে তাই ফ্রিজ থেকে যে কোনো কিছু বের করা এবং রাখার পূর্বে মুখে মাস্ক পরে নিন। এবং যতটা সম্ভব ফ্রিজের ভেতরের অংশ থেকে মুখ দূরে রাখুন।

FREE QUOTE